Tuesday , April 23 2019
Home / Uncategorized / যেভাবে শুরু হলো এই বাংলা সনের প্রচলন

যেভাবে শুরু হলো এই বাংলা সনের প্রচলন

পহেলা বৈশাখ,বাংলা সনের প্রথম দিন। এ দিনটি বাংলাদেশে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় নববর্ষ। এদিন সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।

এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। এই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর হয় তাঁর সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে (৫ নভেম্বর ১৫৫৬)। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।

যেভাবে শুরু হলো এই বাংলা সনের প্রচলনঃ

৪৩৫ বছর আগে মুঘল সম্রাট আকবর পয়লা বৈশাখ প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলা সনের সূচনা করেন। ইংরেজি ১৫৮৪ সালে পয়লা বৈশাখকে বাংলা পঞ্জিকার প্রথম দিন নির্ধারণ করে বঙ্গাব্দের প্রবর্তন করা হলেও তার কার্যকারিতা দেখানো হয়েছিল ইংরেজি ১৫৫৬ সালের ১১ মার্চ থেকে অর্থাৎ সেই সম্রাটের সিংহাসন আরোহণের সময় থেকে। সেই হিসাবে, ৪৬৩ বছর আগে ৯৬৩ হিজরিতে ৩৫৪ দিনের গণনায় এনে সম্রাট আকবর নতুন সন প্রবর্তন করেন।

হিজরি থেকে উৎসারিত হয়েছে বাংলা সন। হজরত ওমর রা: ৬৩৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে হিজরি সনের প্রবর্তন করেন। বছরটি ছিল ১৭ হিজরি। হিজরি সনের গণনা করা হয় চাঁদের হিসাবে আর বাংলা সন গণনা করা হয় সূর্যের হিসাবে। বছর চাঁদের হিসাবে ৩৫৪ দিন আর আর সৌর হিসাবে ৩৬৫ দিন। কৃষকদের কাছ থেকে রাজস্ব বা খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ৯৬৩ হিজরিতে ৩৫৩ দিনের স্থলে ৩৬৫ দিনের বর্ষ গণনায় এনে নতুন সন প্রবর্তন করা হয়, এটাই বাংলা সন। সৌর সনে দিনক্ষণ গণনা করা সহজ। সম্রাট আকবরের অর্থ বিভাগের উপদেষ্টা আমীর ফতেহউল্লাহ সিরাজী বাংলা মাসের নামগুলো নক্ষত্রের নাম থেকে নিয়ে, সৌর মাসের দিন মিলিয়ে বাংলা (ফসলি) সন প্রবর্তন করেন। সম্রাটের নির্দেশ অনুযায়ী অনেক ভেবেচিন্তে ১৫৮৪ সালে পয়লা বৈশাখকে বাংলা সনের প্রথম দিন নির্ধারণ করা হয়। সম্রাট আকবরের রাজত্বকাল ছিল ১৫৫৬-১৬০৫ সাল।

‘ফসলি’ সন হিসেবে বাংলা নববর্ষের সাথে সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরোহণের ঘটনা স্মরণীয় হয়ে আছে। সেই সময় থেকে এ দেশের মানুষ চাষাবাদ, খাজনা পরিশোধ, হিসাব-নিকাশসহ সব কিছুতেই বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করে থাকে। পটপরিবর্তনের পালায় ব্রিটিশ আমল ও পাকিস্তান আমল পার হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ আমলে অব্যাহত রয়েছে বাংলা পঞ্জিকা। আকবর ২৯ বছর রাজত্ব করার পর বর্ষপঞ্জি সংস্কারের উদ্যোগ নেন। হিজরি সন এবং তার সিংহাসন আরোহণের বছরকে সংযুক্ত করেই বাংলা সন প্রবর্তিত হয়েছিল।

বাংলা সনের ইতিহাস ঘটনাবহুল। চান্দ্র মাসের হেরফেরে ফসল কাটায় বিলম্ব ঘটত আর সে কারণে খাজনা আদায়ে সমস্যা হতো। এই সমস্যার সমাধানে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন দিল্লির সম্রাট। বাংলা সনের গণনা সম্রাট আকবরের দিল্লির সিংহাসন আরোহণ করার দিন থেকে ধরা হলেও এটা সত্য যে, হিজরি সনই বঙ্গাব্দের মূলভিত্তি। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর ইন্তেকালের পর ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর রা:-এর সময়কালে হজরত আলী রা:-এর প্রস্তাবে মহানবী সা:-এর হিজরতের দিন থেকে হিজরি সন গণনা শুরু হয়। সেটা ছিল ৬২২ সালের ১৬ জুলাই। খ্রিষ্টাব্দ যেমন এসেছে হজরত ঈসা আ: তথা যিশু খ্রিষ্টের জন্মের পর থেকে গণনা করে, তেমনি হিজরি সন গণনা শুরু হয়েছে নবী মুহাম্মদ সা:-এর হিজরতের ভিত্তিতে। অতীতে বঙ্গে প্রচলিত শকাব্দ বা শক বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস ছিল চৈত্র মাস। ৯৬৩ হিজরি সনের মহররম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস। এ জন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং পয়লা বৈশাখকে নববর্ষের প্রথম দিন ধরা হয় ।

About Juwel Rana

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *